সত্যের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—তার নিজের কোনো প্রচারযন্ত্র নেই। যা ঘটেছে, সত্য শুধু সেটুকুই। কিন্তু মিথ্যার সেই সীমাবদ্ধতা নেই। সে প্রয়োজন অনুযায়ী রং বদলাতে পারে, নতুন গল্প বানাতে পারে, একই সঙ্গে দশটা পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা ছড়াতে পারে। একটা মিথ্যা ধরা পড়লে আরেকটা সামনে আনতে পারে।
সত্যকে একটি ঘটনাই প্রমাণ করতে হয়। মিথ্যাকে শুধু সন্দেহ তৈরি করতে হয়।
সুইফট ব্যবস্থাকে ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ব্রিকস পে একটি স্বাভাবিক বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু ধারণা থেকে বাস্তবতায় যাওয়ার পথ এখনো দীর্ঘ।
আমরা কারও ভূখণ্ড চাই না। কারও স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাই না। কিন্তু আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটি, আমাদের আকাশ, নদী, সমুদ্র, নাগরিকের তথ্য এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার—এসবের মালিক শুধু বাংলাদেশের মানুষ।
লোহিত সাগরে যা ঘটছে, তাতে সৌদি আরব ও মিসর—দুই দেশই ক্ষতির মুখে। তাদের অনেক ঝুঁকিও অভিন্ন। তবে রিয়াদের জন্য ঝুঁকিগুলো আরও বড় বলে মনে হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে সরাসরি হস্তক্ষেপে অনাগ্রহী, সাবেক মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের মতপার্থক্য এখনও রয়েছে, এবং ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক রিয়াদকে প্রত্যাশিত সহায়তা দিতে দ্বিধায় রয়েছে।
AI ডিজিটালায়নের পথ উল্টে দিচ্ছে না। বরং ডিজিটাল ব্যবস্থা সব সময় যে ভৌত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, AI সেই ভিত্তিকে আমাদের চোখের সামনে আরও স্পষ্ট করে তুলছে এবং তার গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। AI প্রতিযোগিতার পরবর্তী অধ্যায় তাই শুধু গবেষণাগারের আবিষ্কার, চিপ উৎপাদন, মডেলের সক্ষমতা কিংবা মেধাবী জনশক্তির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সমস্যা এই নয় যে মানুষ ভিন্নভাবে চিন্তা করছে। গণতান্ত্রিক সমাজ তো মতভিন্নতার মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে। বিপদ শুরু হয় তখন, যখন সেই মতভিন্নতার মাঝেও কথা বলার যে অভিন্ন ভূমি প্রয়োজন, সেটিই ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
সাম্রাজ্য অনেক সময় একদিনে ভেঙে পড়ে না। তার পতন শুরু হয় তখন, যখন তার শক্তি আর তার ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে না। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব আজ সম্ভবত সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পষ্ট দুটি প্রতীক।